“পাই (π)”- এর অজানা চৌদ্দ

Udvash July 8, 2020

 ১৪ই মার্চ বিশ্ব পাই দিবস। সাধারণত পাই এর মান ৩.১৪ ধরা হয় বলে প্রতি বছর তৃতীয় মাসের(মার্চ মাসের) ১৪ই তারিখে পাই দিবস পালন করা হয়। কখনও কখনও পাই’র মান ৩.১৪১৫৯২৬ অনুসারে ১৪ই মার্চের দুপুর ১টা ৫৯ মিনিটে পাই দিবস পালন করা হয়। ১৯৮৮ সালে প্রথমবারের মতো পাই দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড’র উদ্যোগে ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে পাই দিবস উদযাপিত হয়ে আসছে। গনিতের এই রহস্যময় পাই-কে নিয়েই আজকের লেখাটি। দেখে নিন এক নজরে-

১. উইলিয়াম জোনস সর্বপ্রথম ১৭০৬ সালে পাই প্রতিকটি ব্যবহার করেন। পাই প্রতিকটি জনপ্রিয় করেন গণিতবিদ লিওনার্দো ইউলার।

২. পাই-এর রাজপুত্র খ্যাত পদার্থবিদ ল্যারি শ’ ১৯৮৮ সালে পাই দিবসের ধারণা প্রদান করেন।

৩. ২০০৯ সালের ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১৪ই মার্চকে জাতীয় পাই দিবস পালনের অনুমোদন দেন।

৪.বর্তমানে কম্পিউটারে পাই (π)- এর মান এক ট্রিলিয়ন বা এক লক্ষ কোটি ঘর পর্যন্ত বের করা সম্ভব।

৫.পাই একটি অমূলদ সংখ্যা অর্থাৎ একে দুইটি পূর্ণসংখ্যার অনুপাতে প্রকাশ করা যায় না এবং পাই একটি তুরীয় সংখ্যা বলে একে বহুপদী সমীকরণের মূল হিসেবেও গণনা করা যায় না।

৬. দশমিকের পরে পাই-এর মান কখনো শেষ হয় না এবং এটি পুনারবৃত্তি করে না।

৭. পাই-এর মান ৩.১৪১৫৯২৬ অনুসারে দুপুর ১টা ৫৯ মিনিট ২৬ সেকেন্ডকে পাই সেকেন্ড বলা হয়।

৮. পাই গ্রিক বর্ণমালার ষোলোতম বর্ণ। গ্রিক শব্দ ‘περιφέρεια’ (যার অর্থ periphery) এবং ‘περίμετρος’(যার অর্থ perimeter)-এর প্রথম বর্ণ হচ্ছে π । ধরা হয়ে থাকে পরিধি বা perimeter শব্দটি থেকেই π-এর ব্যবহার হয়ে আসছে।

৯. ইউক্লিডিয় সমতলীয় জ্যামিতিতে বৃত্তের পরিধি ও ব্যাসের অনুপাতকে পাই হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

১০. পাই-কে কোন কোন সময় বৃত্তীয় ধ্রুবক, আর্কিমিডিসের ধ্রুবক এবং রুডলফের সংখ্যাও বলা হয়।

১১. ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বা এমআইটি অনেক সময় তাদের নতুন শিক্ষার্থীদের গ্রহণপত্র পাই দিবসে ডাক দিয়ে থাকে।

১২. ২০০৬ সালে আকিরা হারাগুচি নামক এক জাপানি প্রকৌশলী পাই-এর মান ১,০০,০০০ ঘর পর্যন্ত মুখস্ত করেন ।

১৩. গিনেসের স্বীকৃত পাই-এর মান বলার রেকর্ড হলো ৬৭,৮৯০ ঘর, যার অধিকারী চীনের ২৪ বছর বয়স্ক স্নাতক ছাত্র লু চাও। তিনি ২৪ ঘণ্টা ৪ মিনিট সময় নিয়ে দশমিকের পর ৬৭,৮৯০ ঘর পর্যন্ত পাই-এর মান শুদ্ধভাবে বলতে সক্ষম হন।

১৪. পাই-এর মান মনে রাখার বেশ কিছু কৌশল আছে, এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হল “পাই কবিতা” । এই কবিতাগুলি এমন যে, এর প্রত্যেকটি শব্দের দৈর্ঘ্য (বর্ণ) পাইয়ের একেকটি অঙ্ক প্রকাশ করে। আচ্ছা, আপনিতো “পাই” সমন্ধে অনেক অজনা কিছুই জানলেন। এবার করতে পারেন ছোট্ট একটি মজার কাজ; আপনি যার কাছ থেকে পাই সম্পর্কে প্রথম জানলেন তাঁকে কমেন্টস-এ ম্যানশন করে জানাতে পারেন “পাই” দিবস’র শুভেচ্ছা।

Related Articles

What Peopleare saying

Avatar

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *